Guredo.AI অ্যাপ নিন

আপনার ফোন থেকেই কার্ড স্ক্যান, প্রি-গ্রেড এবং অথেনটিকেট করুন।

পেছন দিক দেখে নকল পোকেমন কার্ড কীভাবে চিনবেন

আসল ও নকল পোকেমন কার্ডের পেছন দিক পাশাপাশি, সঙ্গে সেই জায়গাগুলোর ক্লোজ-আপ যেখানে নকলকারীরা ভুল করে।

লিখেছেন Guredo.AI Team

একটি আসল ইংরেজি পোকেমন কার্ডের পেছন দিক, পাশে একটি আসল জাপানি কার্ডের পেছন দিক।

একই ভাষার প্রতিটি পোকেমন কার্ডের পেছন দিক একই। তবে সিরিজভেদে সূক্ষ্ম, প্রায় চোখে না পড়ার মতো পার্থক্য থাকতে পারে, আর জাপানি কার্ডের পেছন দিক ইংরেজি কার্ডের চেয়ে দেখতে আলাদা। কার্ড যাচাই করতে বসলে শুরুটা পেছন দিক দিয়ে করাই ভালো। ঠিক ওই কার্ডের স্ক্যান আপনার লাগবে না — একই ভাষার যেকোনো আসল কার্ডই রেফারেন্স হিসেবে কাজে দেয়, আর একই সেটের হলে তো আরও ভালো।

নকলকারীরা জানে ক্রেতারা সামনের দিকটাই দেখে, তাই খাটুনিটা তারা সেখানেই ঢালে: আর্টওয়ার্ক, হোলো, ফন্ট, প্যাটার্ন। পেছন দিকটা প্রায়ই খারাপ মানে আর ভুল কালিতে ছাপা হয় — দেখতে সস্তা, চকচকে আর অতিরিক্ত গাঢ় লাগে। রং সরে যায়, সূক্ষ্ম কাজ থাকে না, আর গোটা জিনিসটা কেমন যেন চ্যাপ্টা দেখায়। অনেক সময় কার্ডটার দিকে তাকালেই মনে হয়, কিছু একটা ঠিক নেই।

এই গাইড শুধু পোকেমন কার্ডের পেছন দিক নিয়ে। অন্য গেমগুলো নিয়ে আমরা পরের পোস্টগুলোতে দেখব। সামনের দিকের জন্য দেখুন আমাদের Base Set যাচাইয়ের গাইড। শুরুর আগে একটা সতর্কবার্তা: ফোনের ক্যামেরা আর আলো রং অনেকটাই বদলে দেয়, তাই বিজ্ঞাপনের একটামাত্র ছবি দেখে পেছন দিক নিয়ে কখনও সিদ্ধান্তে আসবেন না। আসল বলে নিশ্চিত এমন একটি কার্ডের পাশে রেখে, একই আলোয় মিলিয়ে দেখুন। দুটো আসল কার্ডের রংও একটু আলাদা হতে পারে, আর সেটা একেবারেই স্বাভাবিক। এমনকি অফিশিয়াল কার্ডও ভুলভাবে ছাপা বা ভুলভাবে কাটা হতে পারে।

ইংরেজি কার্ড: নীল ঘূর্ণি

আসল ইংরেজি কার্ডের পেছনে থাকে গাঢ় নেভি-ব্লু বর্ডার। তার ভেতরে মেঘের মতো একটি ঘূর্ণি, যেখানে গাঢ় নেভি ছায়া আর ঝকঝকে সাদা মিশে থাকে, আর তাতে সূক্ষ্ম কাজের পরিমাণ প্রচুর। মাঝখানের Poké Ball-এর উপরের অংশ খাঁটি লাল, মাঝে কালো ব্যান্ড, নিচের অংশ ধূসর-সাদা, আর বোতামে ঝকঝকে একটি হাইলাইট। “Pokémon” লোগোটি সোনালি হলুদ, চারপাশে নীল আউটলাইন আর পাশে ছোট্ট TM। সবকিছুই ধারালো — অক্ষর, ব্যান্ড, হাইলাইট।

একটি আসল ইংরেজি কার্ডের পেছন দিক। ঘূর্ণির ভেতরের গাঢ় নেভি অংশ আর Poké Ball-এর পরিষ্কার লাল রং খেয়াল করুন।

নকলে যা যা ভুল হয়, তা এই রকম।

১. বর্ডারের রং। সবচেয়ে প্রচলিত লক্ষণ। আসল বর্ডার নেভি। নকল দুই দিকের যেকোনো একদিকে সরে যায়: হয় বেগুনি ঘেঁষা, নয়তো এত উজ্জ্বল যে পেছন থেকে আলো জ্বলছে বলে মনে হয় — এমন ইলেকট্রিক ব্লু। দুটোর কোনোটিই ঠিক নয়।

২. ধুয়ে যাওয়া ঘূর্ণি। আসল ঘূর্ণিতে ছায়া থাকে, সাদার ফাঁকে ফাঁকে গাঢ় নেভির ছোপ। অনেক নকলে সেই ছায়া উধাও, ঘূর্ণিটা ফ্যাকাশে আর চ্যাপ্টা লাগে — যেন কেউ ব্রাইটনেস বাড়িয়ে দিয়েছে।

৩. Poké Ball-এর রং। বলের উপরের অংশ লাল হওয়ার কথা। নকলে সেটি কমলার দিকে সরে যায়, নয়তো উল্টো দিকে গোলাপি ঘেঁষা ক্রিমসনে। বোতামের হাইলাইটও প্রায়ই আকার হারায়।

৪. লোগোর রং ও আউটলাইন। লোগোর হলুদ কমলা হয়ে যায়, আর নীল আউটলাইনটা পরিষ্কার রেখা না থেকে ঝাপসা হয়ে পড়ে।

৫. নরম ছাপা। নকল প্রায়ই আসলের চেয়ে কম রেজোলিউশনে ছাপা হয়। লোগোর প্রান্ত ঝাপসা লাগে, ঘূর্ণিটা ঘেঁটে যাওয়া মনে হয়, আর কাছ থেকে দেখলে পরিষ্কার রঙের বদলে পিক্সেলের একটা গ্রিড চোখে পড়তে পারে।

৬. বর্ডারের চওড়া। কিছু নকলে বর্ডার বেশি চওড়া বা অসম হয়। তবে এটি নিয়ে সাবধান। আসল কার্ডেও সেন্টারিং প্রায়ই সরে থাকে, আর একা এটি কন্ডিশনের প্রশ্ন, নকলের লক্ষণ নয়। উপরের রঙের লক্ষণগুলোর সঙ্গে মিললে তবেই এটি গোনায় ধরুন।

বেগুনি ঘেঁষা বর্ডার, আর ঘূর্ণিতে গাঢ় নেভির লেশমাত্র নেই।

আরও কাছ থেকে: P-এর ভেতরের D

ইংরেজি কার্ডে চিরাচরিত একটি যাচাই হলো “Pokémon” লোগোর P অক্ষরটি। তার গোল অংশের ভেতরে D-আকৃতির ছোট্ট একটি ফাঁক থাকে। ফোনে ম্যাক্রো ছবি তুলুন, বা লুপ ব্যবহার করুন, আর ওই D আর তার চারপাশের হলুদটা দেখুন। P-এর ভেতরের D সময়ের সঙ্গে একটু একটু বদলায়, তাই কাছাকাছি সময়ের আসল কার্ডের সঙ্গে মেলান। নিচের গ্যালারিতে আছে একটি আধুনিক কার্ড, পুরোনো Base সেটের দুটি আর Expedition সিরিজের একটি, তারপর দুটি নকল।

একটি আধুনিক আসল কার্ড। পরিষ্কার D-আকৃতির ফাঁক দিয়ে ঘূর্ণিটা দেখা যাচ্ছে, আর হলুদের ভেতরে সূক্ষ্ম ও সমান ডট।

আপনার জন্য একটি পরীক্ষা: এর মধ্যে একটি কার্ড আসল, বাকি সবগুলো নকল। বলতে পারবেন কোনটি?

শুধু বাঁ পাশের প্রথম কার্ডটিই আসল। বাকি তিনটি নকল।

জাপানি কার্ড: রঙধনু ছটা

জাপানি কার্ডের পেছন দিকের নকশা আলাদা। আধুনিক কার্ডে এটি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহার হচ্ছে, তাই আপনার হাতে থাকা প্রায় যেকোনো জাপানি কার্ডই বৈধ রেফারেন্স। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকের কার্ডে পুরোনো একটি পেছন দিক আছে, সেটি নিয়ে এই অংশের শেষে বলছি। বর্ডারটি চাপা অলিভ-সোনালি: ম্যাট, একটু খাকি ঘেঁষা, কখনওই উজ্জ্বল হলুদ নয়। তার ভেতরের জমিনটা গাঢ় নেভি, গোটা পৃষ্ঠজুড়ে সূক্ষ্ম ও সমান দানাদার ছোপ, আর Poké Ball-এর পেছনে প্যাস্টেল রঙের নরম একটি রঙধনু ছটা। ধার ঘেঁষে সাতটি এনার্জি অর্ব বসানো — উপরে Grass আর Lightning, দুই পাশে Fire আর Psychic, নিচে Water আর Fighting, আর একদম নিচের মাঝখানে সাদা Colorless তারা। “Pokémon” লোগোটি হলুদ, নেভি আউটলাইনসহ, আর পাশে ছোট্ট একটি ®।

একটি আসল জাপানি কার্ডের পেছন দিক। চাপা সোনালি বর্ডার, নেভির উপর সূক্ষ্ম দানা, নরম প্যাস্টেল রশ্মি।

জাপানি নকলের লক্ষণগুলো:

১. বর্ডারের রং। আসল হলো চাপা অলিভ-সোনালি। নকল ফ্যাকাশে বেইজ বা কমলা-বাদামি হয়ে যায়, আর সবচেয়ে সহজে ধরা পড়ে যেগুলো, সেগুলোর বর্ডার উজ্জ্বল লেবু-হলুদ।

২. পটভূমির নীল। আসল হলো গাঢ় নেভি, তাতে সূক্ষ্ম ও সমান দানা। নকলে সেটা বেশি উজ্জ্বল রয়্যাল ব্লু, আর দানা হয় মোটা ও ছোপ-ছোপ, নয়তো একেবারেই মুছে যাওয়া।

৩. রঙধনু রশ্মি। আসল রশ্মিগুলো নরম ও প্যাস্টেল, বলের পেছনে চুপচাপ বসে থাকে। নকলে সেগুলো চড়া ক্যান্ডি-রঙা, কার্ড থেকে যেন লাফিয়ে বেরিয়ে আসে।

৪. Poké Ball ও অর্ব। আসল বলের শেডিং মসৃণ আর বোতামে স্পষ্ট হাইলাইট। নকলে সেটি চ্যাপ্টা ছাপা হয়, আর সাতটি এনার্জি অর্ব এতটাই ঝাপসা হয়ে যায় যে ভেতরের আইকন পড়া কঠিন।

৫. লোগোর আউটলাইন। লোগোর চারপাশের নেভি আউটলাইনটি বেশি মোটা হয়ে বেরোয়, নয়তো রঙের শেড সামান্য বেঠিক হয়।

ফ্যাকাশে বেইজ বর্ডার, উজ্জ্বল রয়্যাল-ব্লু জমিন আর অতিরিক্ত সম্পৃক্ত রশ্মি।

আরও কাছ থেকে: কোণার Grass অর্ব

আধুনিক জাপানি কার্ডে আমাদের প্রিয় যাচাইয়ের জায়গা উপরের-বাঁ কোণা: Grass এনার্জি অর্ব, তার পাশের সোনালি বর্ডার আর চারপাশের দানাদার নেভি। আসল কার্ডে পাতার চারপাশটা পরিষ্কার আর সেখানকার দানার চেহারা একেবারে নিজস্ব। P-এর ভেতরের D-ও মিলিয়ে নিন। নকলে পাতাটা সরু, আঁচড়ের মতো দাগ হয়ে যায়, দানা বদলে গিয়ে মোটা ডটের প্যাটার্ন হয়, আর নেভি ও লোগোর আউটলাইন বেগুনি ঘেঁষে।

আসল। অর্বের ভেতরের পাতাটি স্পষ্ট, আর তার চারপাশের নেভিতে নিজস্ব চেহারার দানা।

আপনার জন্য একটি পরীক্ষা: এর মধ্যে একটি কার্ড আসল, বাকি সবগুলো নকল। বলতে পারবেন কোনটি?

শুধু বাঁ পাশের প্রথম কার্ডটিই আসল। বাকি দুটি নকল।

পুরোনো জাপানি পেছন দিক

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকের জাপানি কার্ড দেখতে আলাদা: গাঢ় নীল জমিনের উপর সাদা রশ্মিসহ “Pocket Monsters Card Game” লেখা, ধারের একটু ভেতরে সরু একটি লাল ফ্রেম লাইন, আর নিচে ১৯৯৬ সালের কপিরাইট লেখা। এগুলোও নকল হয়, আর সাধারণ যাচাইগুলো এখানেও খাটে — নীলের শেড, ছোট লেখাগুলো কতটা ধারালো, আর লাল রেখার বাইরের সাদা মার্জিন কতটা চওড়া।

আরও কাছ থেকে: “MONSTERS”-এর O। এই পেছন দিকে এটিই আমাদের প্রিয় যাচাই। আসল কার্ডে O হলো পরিষ্কার একটি রিং: মাঝের ফাঁকটা চওড়া ও গোল, আর O-র উপরের অংশে সূক্ষ্ম রেখার মতো দেখতে একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন থাকে। নকলে অক্ষরটি বেশি ভারী।

আসল। O-এর ফাঁকটি চওড়া ও গোল, আর তার উপরের অংশে সূক্ষ্ম রেখার একটি প্যাটার্ন।

আপনার জন্য একটি পরীক্ষা: এর একটি আসল আর অন্যটি নকল। বলতে পারবেন কোনটি কোনটি?

বাঁ পাশের কার্ডটি আসল। ডানেরটি নকল।

কার্ডের পেছন দিক কীভাবে যাচাই করবেন

  • আসল বলে নিশ্চিত এমন কার্ডের সঙ্গে মেলান — একই ভাষার, সম্ভব হলে একই সেট বা সিরিজের, আর একই আলোর নিচে। বেশিরভাগ লক্ষণ পাশাপাশি রাখলেই কেবল চোখে পড়ে।
  • দুটোকে একই ছবিতে তুলুন। ক্যামেরা রং বদলে দেয় ঠিকই, কিন্তু দুটো কার্ডেই একইভাবে বদলায়।
  • রং ঠিকঠাক লাগছে অথচ কিছু একটা খটকা লাগলে লুপ ব্যবহার করুন। ১০x–৩০x লুপ, বা ফোনে ম্যাক্রো ছবি, ছাপার ডটগুলো দেখিয়ে দেয় — উপরের ক্লোজ-আপগুলো দেখুন, আর আরও জানতে Base Set গাইড
  • বিজ্ঞাপনের একটামাত্র ছবি দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। বিক্রেতাকে বলুন দিনের আলোয় পেছন দিকের ছবি তুলে দিতে, পারলে আরেকটি কার্ডের পাশে রেখে।

সংক্ষেপে

কার্ডের পেছন দিকে বেশিরভাগ কাজটা করে তিনটি জিনিস: বর্ডারের রং, ঘূর্ণি বা দানার কনট্রাস্ট, আর ছাপা কতটা ধারালো। এর একটি বেঠিক হলে সেটি সতর্কবার্তা; দুটি বেঠিক হলে সেটিই উত্তর। আর সবসময় এক জিনিসের সঙ্গে এক জিনিসই মেলাবেন — ইংরেজি কার্ডের পেছন দিক জাপানি কার্ড সম্পর্কে কিছুই প্রমাণ করে না, উল্টোটাও তাই।